কুয়েট সিএসই এবং যাবার আগে যা বলা উচিত – ১

সারা জীবন প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে অনেক কথাই সংক্ষেপে বলা হয়ে যায়। আজকে যাবার আগে কিছু কথা বলা দরকার। অনেক দিন ধরেই নিজের মধ্যে চেপে গেছি এই কথাগুলো। আবিদ সহ বেশ কয়েকজন বন্ধু কিছু বলেছে। চলে যাচ্ছি কয়েকদিন পর। তাই এগুলো বলে যাওয়া উচিত মনে হচ্ছে

হতাশা কুয়েটের ডিকশনারীর সবচেয়ে পপুলার শব্দ। এর কারণের শেষ নাই। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে হতাশ হবার কোন কারণ নাই। আমার ছাত্র জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন দুই ব্যক্তি তানজীম ভাই (তানজীম সাকিব), তেল নয়, ওনাকে চিনি বেশ আগে থেকে; এবং তানবিন ইসলাম সিয়াম। আমি অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম ব্যক্তি তানজীম এবং এবং ব্যাক্তি সিয়াম ভাই কে দেখে, কোন প্রফেশনাল দৃষ্টিভঙ্গি  থেকে নয়। যদি আপনার মনে হয় আপনার জীবন কষ্টের এবং সাফল্য এর মাঝখান থেকে আনা সম্ভব নয়, তানজীম সাকিব ভাইয়ের জীবনের ইতিহাসটা একবার শুনবেন। তা যদি যুতসই মনে না হয়, পড়তে থাকুন। রাস্তার অনেক ছেলে আপনার চেয়ে বড় স্বপ্ন দেখে। আপনার ভয় কি?

হ্যাঁ, কুয়েট সমস্যার বস্তা একটা জায়গা, আমি জানি। নতুন করে বলবার কিছু নাই। এখানে সুযোগ কম আসে, সত্য। Bill Gates একটা ভয়াবহ সত্য কথা বলে গিয়েছিলেন, Life is not fair, get used to it. বুয়েট, সাস্ট ভালো না খারাপ, কত বেশি এক্সপোজার বা সুযোগ পায় তা চিন্তা না করে, ওরা ১০০ মাইল গেলে আমাদের ১১৫ মাইল যাবার চিন্তা করা উচিত। বাস্তব টা কঠিন। কেউ যেচে আপনাকে সুযোগ দেবেনা। আপনার আলো আপনাকেই জ্বালাতে হবে। কেউ জ্বালিয়ে দেবেনা। বাস্তব চিনতে শিখুন।

খুলনা ঢাকা থেকে অনেক দূরে, সত্য। কিন্তু ভেবে দেখুন বাংলাদেশের অনেক প্রান্ত থেকেই ভালো প্রফেশনাল বের হয়। (আমি ইন্ডাস্ট্রিমুখো হতে চাই, সেটার কথাই বলছি)। আপনি চিন্তা করতে পারবেন না কত কষ্ট করে কত জায়গায় কত লোক আছে। খুলনা দুরে? তাহলে আর একটু বেশি কষ্ট করুন। পারবেন। কোন প্রতিযোগীতায় যাবেন, ঢাকা যাওয়া দরকার এক দিনের জন্য, আলসেমি না করে যান।

Dedication এক জায়গায় দিন। যারা ACM করছো, programming contest করছো, করতে থাকো। পিছপা হয়োনা। Success is a journey, not a destination. তোমার রাস্তা তুমিই বানাতে পারবে। কারো কথায় প্রভাবিত হয়ে ছেড়ে দিয়োনা। বলতে পারো, ভাই, সে তো করেনাই, তো? তার মানে এই না তুমি করলে ভালো করবেনা । তোমার ভালো লাগলে করতে থাকো। যে কোন একটা প্রবলেম টাইপে ভালো হয়ে নাও। শুধু OOP ভুলে যেওনা। ওটায় খেয়াল রেখো। সবার রাস্তা এক নয়। কেউ ডেভলপ করতে ভালোবাসলে তার এলগরিদম জানার দরকার নাই মনে করলে ভুল করছো। CSE এর সব বস্তুই কাজে লাগে, ফেলনা কিছুই নাই। API জানা আর programming জানা ভিন্ন বস্তু। আপনি যদি উপরে উঠতে চান, আপনার problem solving skill থাকতেই হবে। আমি ভুল করেছি। আপনি করবেন না। যে কোন একটায় ভালো জানুন। বাকিগুলো জানবেন না তা না। আপনি এন্ড্রয়েডে ভালো মানে আপনাকে সেটা দিয়েই বিবেচনা করা হবে তা না। সেটা শুধুমাত্র প্রমাণ করে আপনি হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস এ ভালো। বারবার সুইচ না করে একটা করুন। যে যাই বলুক।

প্ল্যাটফর্ম ডিলেমা আরেক মজার সমস্যা। ভাই, ডেভলপার রা প্ল্যাটফর্ম বানায়। প্ল্যাটফর্ম ডেভলপার বানায় না। কে অ্যান্ড্রয়েড আর কে উইন্ডোজ ফোনে কাজ করে সেটা ব্যাপার না। নিজে যেটায় ভালো সেটা করেন। আগে ল্যাংগুয়েজ, এলগরিদমে জোর দেন। এপিআই শিখতে লাগে দুই দিন। ডিজাইন প্যাটার্ন কুয়েটে শেখানো হয়না। এটা সিলেবাসে থাকা উচিত। নিজে শিখে নেন। লাগবে।

সম্মান করতে শিখুন। কে কোথায় কিসে কাজ করে ব্যাপার না। যে যেখানেই ভালো তাকে সম্মান দিন। অন্য কেউ আপনার কাজকে হেয় করলে হাসিমুখে তার উত্তর দিন। জ্ঞানের তিনটি স্তর, প্রথমটায় মানুষ উদ্ধত হয়, দ্বিতীয়টায় মানুষ শান্ত হয়, তৃতীয়টায় হীনমন্যতায় ভোগে কারণ সে উপলব্ধি করে সে কতো কম জানে। নিজের কাজকে যতটুকু সম্মান দেবেন, মানুষের টাকেও ততটুকু। কাউকে হেয় করবেন না সে আপনাকে করুক আর নাই করুক। সম্মান ব্যর্থ হয়না। আমি উইন্ডোজ ফোন , সি শার্প এ কাজ করি। অনেক হাস্যরসের সামনে পড়েছি জীবনে এই প্ল্যাটফর্মে থেকে। কিন্তু আমি আজ দাঁড়িয়ে আছি এই  প্ল্যাটফর্ম দিয়েই। কারো কটুক্তি কানে তুলবেন না। আপনার স্বপ্ন সত্যি করার ক্ষমতা আপনার আছে। নিজেকে বিশ্বাস করুন। অন্যের উপর নির্ভরশীলতা ছাড়ুন। নাহলে পিছিয়েই থাকবেন। Take Everything With a Smile.

Sacrifice করতে প্রস্তুত থাকুন। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে কিছু আপনাতে ছাড়তেই হবে। আমি হারিয়েছি অনেক। তাই বলে এই না সবাইকেই করতে হবে। শুধু প্রস্তুত থাকুন যদি কোথাও সুযোগ পান নিজের একটু আনন্দ ছাড় দেয়াও লাগে, পিছপা হবেন না। সবাইকে আপনি খুশি করতে পারবেন না। যারা আপনাকে ভুল বুঝবে তাদের কষ্ট লাঘব করতে যা করা লাগে করবেন। কিন্তু নিজে জ্বলতে শিখুন।

স্বপ্ন দেখতে শিখুন। স্বপ্ন ই প্রেরণা দেয় বাঁচার। স্বপ্ন ছাড়া কিছু সম্ভব নয়। কুয়েটে স্বপ্ন হয়তো মারা যায়। কিন্তু তার মানে এই না আপনি পারবেন না।

প্রাইভেট ভার্সিটি শুনে নাক সিঁটকাবেন না। সম্মান দিতে শিখুন। বাংলাদেশের অনেক প্রান্তে অনেক ছাত্র আছে যারা সুযোগ কতটুকু পেয়েছে বিচার না করে যুদ্ধ করতে থাকে। ভালো কাজের প্রশংসা করেন। সেটা যেখান থেকেই আসুক। আপনি চিন্তা করতে পারবেন না কত ভালো ভালো জায়গায় এরা নিজেদের স্বাক্ষর রেখেছে। Microsoft কিংবা Google এ বাদ যায়নি।

নিজের পরিচয় তৈরী করুন। আপনি যত বড় কারো সাথেই থাকুন না কেন দিনশেষে আপনি কে সেটা বড় বিষয়, কার সাথে আপনি চলেন তা নয়। যারা আপনাকে দেখে হাসছে, একদিন আপনার কষ্ট তাদের সব কটুক্তি কে ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বাস করুন, কষ্ট বৃথা যায়না।

মানুষকে উৎসাহিত করুন। কেউ কোথাও ভালো কাজ করলে তাকে উৎসাহ দিন। নিরুৎসাহিত করবেন না। তাতে আপনার গৌরব প্রকাশ পায়না। আপনার সংকীর্ণতা প্রকাশ পায়।

কম্পিউটার সায়েন্সে পড়তে এসছেন। বিনোদন আপনার জন্য, সত্য। কিন্তু সেটাকেই সব বানিয়ে ফেলবেন না। শেখার চেষ্টা চালান। পারুন আর নাই পারুন। কে কি বললো বিষয় না। কম্পিউটার থেকে দূরে থাকবেন না। চিনতে শিখুন, ব্যবহার করতে শিখুন। যে ঠিকমতো মাউস নাড়াতে পারছেন না তার জন্য আগে কম্পিউটার চেনা জরূরী। পরে প্রোগ্রামিং। প্রথম বর্ষে যারা কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন নি আগে, হতাশ না হয়ে শুরু করে দিন। দিনশেষে আপনাকে একটু বেশি হাটতে হবে মানে এই না আপনি হাটতে পারবেন না।

আমরা শুরু করেছি। আমার সকল বন্ধু করছে । আবিদ, আশেক, অতনু, রানা, আশিক, গানিম, প্রীতম, ফাহিম, অরিন, রাকিব, আদনান সবাই চেষ্টা করছে। একদিন পরিস্থিতি বদলাবে। 2k5, 2k6, 2k7 চেষ্টা করছে। কুয়েট জ্বলবে। দেশ বা দেশের বাইরে, ইন্ডাস্ট্রি বা রিসার্চ সব জায়গাতেই কুয়েট দাঁড়াবে। আপনি শামিল হোন। আমরা অজুহাত চাইনা। সংগ্রাম চাই। কথা না বাড়িয়ে আমরা কাজটুকু করি। হয়ে যাবে।

প্রোগ্রামিং ব্যতীত টিকতে পারবেন না। লিখে রাখুন কথাটা। আপনি ঠিক করুন কিসে আপনি খুশি। Sky is the limit.

Run after skills. People will criticize you, taunt you. Learn from those.  In the last day, if you keep fighting, you will win. Winning doesn’t mean getting a good job or earn a lot. It means to live up to that name that you dreamed of. Its a journey. Its not a destination.

Advertisements

সাধারন একটি গল্প

আমি অনেকদিন লিখিনা, কিছুই লিখিনা, শক্ত কোডিং এর বিশ্রী লাইন আর মাউস নিয়ে গুতোগুতি ছাড়া কিসসু করিনা অনেকদিন, কেমন জানি মনে হয় ভেতরটা খালি হয়ে গেছে, কিছু পাওয়া যাচ্ছেনা।

আজকে যা লিখতে বসেছি তা শুরু করবার আগে ঢং করে বলে ফেলি –  “বেশি কথা বলবোনা” (আসলে ঘটনা উল্টো)।

যার কথা বলবো তার নিজেরও বলার মতো তেমন কেউ নাই, ছোটবেলা থেকেই একা, একটু বেশিই একা। একমাত্র সন্তান হিসেবে পাওনা ভালোবাসাটুকু যতটুকু চোখে লাগে তার পেছনের কষ্টটা কারো চোখে পড়েনা, তাই চোখে ধরিয়ে দেই আজ। চাকুরীজীবি বাবা মার ব্যস্ত জীবনের ফাঁক ফোঁকরে কখন তার শৈশবটা চলে গেছে সে নিজেও জানেনা। জানলেই বা কি? সময় তো আর বসে থাকেনা। মানুষ বাঁচে স্বপ্নে, একটা শিশু বাঁচে রঙে। অদ্ভুত শুনতে লাগতে পারে, সাইকোলজির থান ইট টাইপ বই হয়তো ভুল বলে বসতে পারে। কিন্তু আমার দেখা সেই ছেলেটির জীবনে রঙটাই ছিলো সব, বড্ড বেমানান একটা সাদা কালো জীবনের বাসিন্দা সে ছেলেটি তাই রঙের স্বপ্ন দেখতো। নিজের রঙে দুনিয়াটা আঁকতে গিয়ে অনেক সময় পার হয়ে যায়। নিজেকে স্বান্তনা দেবার মতো কিছু থাকেনা, বারবার একই কথা বলে নিজেকে আর কতো মানানো যায় বলো?

শৈশব না হয় থাক, ঘরে ফেরা মা-বাবার অপেক্ষায় আর একটু সময়ের দাবিতে সেটা তার অনেক আগেই ম্রিয়মান, কিছুটা এগিয়ে যাই বরং। সেটাই ভালো। জীবন চিনতোনা সেই ছেলেটি-হয়তো চিনতে চাইতোনা কোনো কারণে। ভুলটা তাই করা জরুরী ছিলো তার জীবনে। করে বসলো ও তাই। ভালোবেসে বসলো এমন কাউকে যাকে ভালোবাসা যায়না। একা জীবনের কোথাও একটু সুখ বোধহয় কোনভাবে চালিয়ে নিচ্ছিলো সে। কিন্তু ভুলটা ভাঙলো কিছু পরেই। ভাঙা ভুলটুকু তাই শুধরানোর চেষ্টা চললো আবার। সময় বয়ে গেছে অনেকটা, শৈশব আর কৈশোর তখন শেষ প্রান্তে। মাথায় চাপলো গানের ভুত। আনাড়ি হাতের গিটার তখন সঙ্গী তার। অদ্ভুত এক মেকী ভাবের রাজ্যের অধিপতি সেই ছেলে। স্কুলের কয়েক বন্ধুও জুটে গেলো তার সাথে একই পাগলামিতে। শান্তি গিয়ে লুকোলো আনাড়ি হাতের বাজনায়। চললো কয়েকদিন।

ততদিনে নামের পেছনে Awkward বিশেষনটা অনেক আগেই সেঁটে গেছে তার। বাঁধভাঙা Ego আর হাজারো মেকী অহংকারের মুখোশটাই হয়তো বাঁচিয়ে নিয়ে চলছিলো কোনমতে। হঠাৎ জীবনটা বদলে গেলো তার। অসুস্থ বাবা আর ভাঙাচোরা পরিবারের উত্তাপে কোথায় যে একা একটু শান্তি খোজা দরকার ছিলো তার। সেটা বোধহয় আর মিললোনা। মার একা সংগ্রামের পরিবারে কোথায় জানি নিজের রংটুকু হারিয়ে ফেললো সে।

ভালোবাসা তাই বলে হার মানেনি। কোথা থেকে চলে এলো তার জীবনে সে নিজেও জানেনা। তাই শান্তির লোভটা চেপে বসলো আবার। আবার ভালোবেসে বসলো কাউকে। চলছিলো বেশ। হঠাৎ আবিস্কার করলো ছেলেটি এ পৃথিবীতে ভালোবাসতে গেলে শুধু ভালোবাসলেই হয়না। আরো অনেক চাই, ভালো দেখতে  হওয়া চাই, সম্মান থাকা চাই, পারিবারিক মর্যাদা থাকা চাই। ক্লান্ত সে ছেলেটি অনায়াসে বুঝতে পারলো এই চাওয়ার শেষ হয়তো তার দেখা হবেনা।

ছেলেটির মার চাকরী শেষ হয়ে এলো। ছেলেটি নিজের বাকি সময়টুকু ঢেলে দিলো নিজের স্বপ্নের বাস্তবায়নে। দিন রাত পরিশ্রম, কাছের লোকগুলো বড় দূরের মনে হতে লাগলো। অনিশ্চয়তার এই জীবনের ফাঁকে আজো সে স্বপ্ন দেখে। আজো বিশ্বাস করে বসে আছে সেই মিথ্যেগুলো, কিই বা করার আছে বলো? ভেতরের কোথাও সে জানে এই যুদ্ধ শেষ হবার নয়। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে হয়তো আবার সবাই ছুঁড়ে ফেলে এগিয়ে যাবে তাদের জীবনে। পড়ে থাকবে এই বোকা মানুষটা।

আমি একজন বোকা, অনেক বড়ো বোকা। আমার কথা শোনবার নয়, বলবার ও নয়। আমি নতুন দুনিয়ার নতুন নিয়মে চলতে পাড়িনা। কিন্তু তাই বলে যুদ্ধ করতে জানিনা, তা নয়। হয়তো তোমাদের জীবনে আমার ঠাঁই নাই। তোমাদের চোখে আমি প্রয়োজনহীন, যোগ্যতার অভাবের ভারে ভারাক্রান্ত। আসলে আমি সাধারণ, আমি একটু বেশিই সাধারন।

দ্বার বদ্ধ করে ভ্রমটাকে রুখি: প্রসঙ্গ কুয়েট

যে কথাগুলো বলতে এই বকবকানি শুরু করা তা মোটেও কোনো সুখকর অনুভুতি থেকে নয় এইটুকু বলতে পারি। দুপুরের ঘুমটা যখন আজ তেমন একটা জমে উঠলোনা আমার অগাধ অর্থহীন সময়ের কিছুটা আজ CCC (Central Computer Centre) এ কাটাতে ইচ্ছে করলো। অনেকদিন যাওয়া হয়না। হাতে কতগুলো নেটবই (ebook) আসা দরকার তাই  তক্কে তক্কে পুরনো দিনের মতো পৌছে গেলাম CCC তে।এই সময়টায় এমনিতেই CCC ভরা থাকে। আজ হঠাৎ খালি দেখে মনে হলো যাক্ বাবা আজ কপালটা বোধহয় ভালো। কিন্তু কতটুকু ভুল ভেবেছিলাম সেটার প্রমাণ পেলাম ঠিক একটু পর।

CCC এর চেহারা আগের থেকে ভালো হয়েছে দেখে মনটা আরো ভালো হয়ে গেলো। সোজা বসে পড়লাম এক কোনায়। গত কয়েকদিন ধরেই বেশ কিছু টিউটোরিয়াল ঘাটাঘাটি করছিলাম । আজ সুযোগ পেযে ভাবলাম Autodesk Maya 2009 এর ভিডিও টিউটোরিয়াল গুলোর এক দুইটা অন্তত নামিয়েই ফেলি। কিন্তু বিধি বাম।hotfile, rapidhshare, megaupload কোনো লিংক এই আমাকে ” মি: এডমিনিস্ট্রেটর” প্রবেশের অনুমতি দিলেননা!

ঘটনাচক্রে এক বড় ভাই জানালেন বিচিত্র এক কাহিনী! এখানে এখন আর video files, .rar extensions এছাড়া আরো অনেক extension এর ফাইল ডাউনলোড করতে দেয়া হয়না! কারণটা আরো হাস্যকর! এগুলো চালু থাকলে নাকি ছেলেপেলে পড়ার জিনিস বাদ দিয়ে অন্য জিনিস বেশী ডাউনলোড করে! হঠাৎ করে বর্তমান “ডিজিটাল” সরকারের ফেসবুক বন্ধ করার কাহিনী মনে পড়ে গেলো। এ কি বিচিত্র মিল!   “Academic” জিনিষ কি উক্ত type এর ফাইলগুলোতে থাকতে পারেনা???

“যদি নাই থাকে দয়া করে এই মূর্খ মানবকে জানাবেন কি ঠিক কোন ধরনের ফাইলগুলোতে তা থাকে????”

গুটিকতক ছাত্রের অপব্যবহারের জন্য এসকল ফাইল এক্সটেনশন ডাউনলো্ড বন্ধ করে আমার মতো “অসহায়” ছাত্র আজ সামন্য কয়েকটা টিউটোরিয়াল ভিডিও সামাতে ব্যর্থ হলো। যে কাজ সামান্য একটু নজরদারিতেই সম্ভব তা না করে  এহেন “ডিজিটাল” সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাহবা না দিয়ে পারছিনা। এই না হলে “ডিজি-টাল” বাংলাদেশ?

আমরা সামনে এগিয়ে যাবার কথা বলি। গাল ফুলানো, মন ভোলানো একগাদা প্রতিশ্রুতি শুনি প্রতি বছর। প্রতিশ্রুতি ই রয়ে যায় এগুলো। মাঝে এহেন “প্রশংসনীয়” সিদ্ধান্তে বিষিয়ে ওঠে সাধারণ ছাত্রদের জীবন।

যাবার আগে শুধু একটা কথাই বলে যাবো…ছাত্রদের পিছিয়ে রাখা যায়না, যাবেনা! যারা রাখতে চায় তারাই পিছিয়ে থাকে, দরজা আটকে যারা ভুলগুলোকে রুখতে চায় তারা একই সাথে যা কিছু ভালো তাকেও আটকে দেয়। কুপমন্ডুক এ কর্তৃপক্ষকে “উপদেশ” দেয়ার “ধৃষ্টতা” দেখাবনা। যারা এই যুগেও এই ধরণের বিচিত্র কাজ করতে সমর্থ হন তাদের কর্ণকুহরে এই আর্তনাদ পৌছবেনা। পার্থক্য এইটুকুই হবে শ্রদ্ধার বদলে একরাশ হতাশা নিয়ে বের হয়ে যাবে আমার মতো অসহায় শিক্ষার্থীরা। আর পেছেনে পরে থাকবে কুপমন্ডুক এই কর্তৃপক্ষ।

আজ যখন শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সিদ্ধান্তসমূহের প্রশংসা করে এর শিক্ষার্থীরা, কি করবে কুয়েটের শিক্ষার্থীরা? প্রশংসার বদলে কি হতাশাই ঝরে পড়বেনা তাদের কণ্ঠে? পড়ুক!

“কারা পিছিয়ে যাবে? কর্তৃপক্ষ না ছাত্ররা?”

উত্তরের অপেক্ষায় রইলামনা। জানি, এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার “ধৃষ্টতা” তাদের নেই!

বাংলা ইউনিকোড ফন্টের প্রসার চাই

ইউনিকোড ফন্ট সম্পর্কে খুব যে বেশী একটা জানি তা নয়। কিংবা সরাসরি ফন্ট ডেভলপমেন্ট নিয়ে কাজ করার মতো প্রতিভাধর লোক ও আমি নই।অভ্র ব্যবহার করছি মাত্র কযেকদিন। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক – কেনো এহেন শিরোনাম?

আজ বিজয় বনাম অভ্র প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলতে গেলে কথা বাড়তেই থাকে। বলা নিস্প্রয়োজন ভাষাবানিজ্যের পক্ষের হাতেগোনা “সাহসী” ব্যক্তিদের মধ্যে আমি কেউ নই। আজ ওয়েবের পাতায় পাতায় বাংলা ভাষার বিচরণটুকুর কৃতিত্ব অভ্রকে দিতে হবে বলে অন্য কোথাও আর একে ব্যবহার করা যাবেনা এই ধারণাটা মানতে কষ্ট হচ্ছে অনেক।

অভ্র বনাম বিজয় শীর্ষক এযাবৎকালের বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ অনলাইন যুদ্ধটা শুরু হবার পর অভ্রের ব্যাপারে এই একটা অনুযোগই বেশী শোনা গেছে – “প্রিন্ট মিডিয়াতে অভ্র ব্যবহার কষ্টসাধ্য” । অনুযোগ শোনা গেছে স্যান্স সেরিফ ইউনিকোড ফন্টগুলোকে নিয়েও। কিন্তু কতটুকু ব্যবহার করেছি আমরা এই ফন্টগুলো?

অভ্রের ডিফল্ট ফন্ট হচ্ছে সিয়াম রুপালী। অভ্র ইনস্টল করার সময় এটিই ডিফল্ট ইনস্টল হয়ে যায় আপনার কম্পিউটারে। বিদ্যাসাগরীয় ফন্টের মতো নয় বলে প্রিন্ট মিডিয়াতে এর ব্যবহার না হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কতজন অভ্র ব্যবহারকারী জানছে এই ফন্টগুলোর কথা? কতজন অভ্র ব্যবহারকারী সিয়াম রূপালী সহ অন্য ফন্টগুলোকে চিনছে? সহজে একটি বাটন চেপে ফন্ট পরিবর্তনে অভ্র নিঃসন্দেহে লেখার সুবিধা করে দিয়েছে অনেক কিন্তু যে ইউনিকোড ফন্টগুলো আমাদের দেশের আনাচে কানাচে লুকিয়ে থাকা ডিজাইনার রা আমাদের জন্য তৈরী করে দিচ্ছে তার ব্যবহার হচ্ছে কতটুকু? কতটুকু সম্মান দিচ্ছি তাদের কাজের?

কালপুরুষ সম্পর্কে সকলের ধারণা বদলাতে বাধ্য হবে বলে আশা রাখছি। প্রিন্ট মিডিয়াতে নি:সন্দেহে ব্যবহারযোগ্য একটি ফন্ট এটি। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই বলে নয়, সত্যি এটাই যে সিয়াম ভাই কখন এই বিশাল কাজটুকু করেছেন তা জানার সৌভাগ্য আমার হয়নি কিন্তু যা করেছেন তা আশা করি সবাই দেখেছেন, দেখছেন।

অভ্রকে যদি প্রিন্ট মিডয়াতে সত্যিকার অর্থে আমাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হয় তবে অবশ্যই এইসব ফন্টের প্রসার জরুরী। বিজয় এর একচেটিয়া প্রাধান্যের বেড়াজাল থেকে বের হতে হলে অবশ্যই দরকার এই সব ফন্টের প্রকৃত প্রসার এবং ব্যবহার। একটি ফন্ট ডেভলপমেন্ট টিম কাজ করছে আজ অভ্রকে প্রিন্ট মিডিয়াতে আনার জন্য। আসুন, শুধু সহজে ওয়েব এ বাংলা লেখার মাধ্যম নয়, অভ্রকে আমরা প্রকাশ করি বাংলা লেখার পূর্ণাঙ্গ একটি মাধ্যম হিসেবে। সেই সূত্রে শুধু অভ্রের প্রচার নয়, এর সাথে আসা এইসকল ইউনিকোড ফন্টগুলোকেও পরিচিত করতে হবে সবার মাঝে। সিয়াম রূপালী, সোনার বাংলা কিংবা নতুন আগত কালপুরুষ ই হোক আমাদের লেখনীর হাতিয়ার।আসুন, এডোবি ফটোশপ বা ইলাস্ট্রেটর সহ অন্যান্য সফটওয়্যারগুলিতে ব্যবহার্য কনভার্টার সমূহ যোগ করে অভ্রকে আমরা পূর্ণাঙ্গ করতে সহায়তা করি। ভাষা বানিজ্যের প্রাচীর ভেঙে ভাষা উন্মুক্ত হোক!

কালপুরুষসহ সকল ইউনিকোড বাংলা ফন্টের প্রচার ও প্রসারের দাবি জানাচ্ছি!