কুয়েট সিএসই এবং যাবার আগে যা বলা উচিত – ১

সারা জীবন প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে অনেক কথাই সংক্ষেপে বলা হয়ে যায়। আজকে যাবার আগে কিছু কথা বলা দরকার। অনেক দিন ধরেই নিজের মধ্যে চেপে গেছি এই কথাগুলো। আবিদ সহ বেশ কয়েকজন বন্ধু কিছু বলেছে। চলে যাচ্ছি কয়েকদিন পর। তাই এগুলো বলে যাওয়া উচিত মনে হচ্ছে

হতাশা কুয়েটের ডিকশনারীর সবচেয়ে পপুলার শব্দ। এর কারণের শেষ নাই। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে হতাশ হবার কোন কারণ নাই। আমার ছাত্র জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন দুই ব্যক্তি তানজীম ভাই (তানজীম সাকিব), তেল নয়, ওনাকে চিনি বেশ আগে থেকে; এবং তানবিন ইসলাম সিয়াম। আমি অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম ব্যক্তি তানজীম এবং এবং ব্যাক্তি সিয়াম ভাই কে দেখে, কোন প্রফেশনাল দৃষ্টিভঙ্গি  থেকে নয়। যদি আপনার মনে হয় আপনার জীবন কষ্টের এবং সাফল্য এর মাঝখান থেকে আনা সম্ভব নয়, তানজীম সাকিব ভাইয়ের জীবনের ইতিহাসটা একবার শুনবেন। তা যদি যুতসই মনে না হয়, পড়তে থাকুন। রাস্তার অনেক ছেলে আপনার চেয়ে বড় স্বপ্ন দেখে। আপনার ভয় কি?

হ্যাঁ, কুয়েট সমস্যার বস্তা একটা জায়গা, আমি জানি। নতুন করে বলবার কিছু নাই। এখানে সুযোগ কম আসে, সত্য। Bill Gates একটা ভয়াবহ সত্য কথা বলে গিয়েছিলেন, Life is not fair, get used to it. বুয়েট, সাস্ট ভালো না খারাপ, কত বেশি এক্সপোজার বা সুযোগ পায় তা চিন্তা না করে, ওরা ১০০ মাইল গেলে আমাদের ১১৫ মাইল যাবার চিন্তা করা উচিত। বাস্তব টা কঠিন। কেউ যেচে আপনাকে সুযোগ দেবেনা। আপনার আলো আপনাকেই জ্বালাতে হবে। কেউ জ্বালিয়ে দেবেনা। বাস্তব চিনতে শিখুন।

খুলনা ঢাকা থেকে অনেক দূরে, সত্য। কিন্তু ভেবে দেখুন বাংলাদেশের অনেক প্রান্ত থেকেই ভালো প্রফেশনাল বের হয়। (আমি ইন্ডাস্ট্রিমুখো হতে চাই, সেটার কথাই বলছি)। আপনি চিন্তা করতে পারবেন না কত কষ্ট করে কত জায়গায় কত লোক আছে। খুলনা দুরে? তাহলে আর একটু বেশি কষ্ট করুন। পারবেন। কোন প্রতিযোগীতায় যাবেন, ঢাকা যাওয়া দরকার এক দিনের জন্য, আলসেমি না করে যান।

Dedication এক জায়গায় দিন। যারা ACM করছো, programming contest করছো, করতে থাকো। পিছপা হয়োনা। Success is a journey, not a destination. তোমার রাস্তা তুমিই বানাতে পারবে। কারো কথায় প্রভাবিত হয়ে ছেড়ে দিয়োনা। বলতে পারো, ভাই, সে তো করেনাই, তো? তার মানে এই না তুমি করলে ভালো করবেনা । তোমার ভালো লাগলে করতে থাকো। যে কোন একটা প্রবলেম টাইপে ভালো হয়ে নাও। শুধু OOP ভুলে যেওনা। ওটায় খেয়াল রেখো। সবার রাস্তা এক নয়। কেউ ডেভলপ করতে ভালোবাসলে তার এলগরিদম জানার দরকার নাই মনে করলে ভুল করছো। CSE এর সব বস্তুই কাজে লাগে, ফেলনা কিছুই নাই। API জানা আর programming জানা ভিন্ন বস্তু। আপনি যদি উপরে উঠতে চান, আপনার problem solving skill থাকতেই হবে। আমি ভুল করেছি। আপনি করবেন না। যে কোন একটায় ভালো জানুন। বাকিগুলো জানবেন না তা না। আপনি এন্ড্রয়েডে ভালো মানে আপনাকে সেটা দিয়েই বিবেচনা করা হবে তা না। সেটা শুধুমাত্র প্রমাণ করে আপনি হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস এ ভালো। বারবার সুইচ না করে একটা করুন। যে যাই বলুক।

প্ল্যাটফর্ম ডিলেমা আরেক মজার সমস্যা। ভাই, ডেভলপার রা প্ল্যাটফর্ম বানায়। প্ল্যাটফর্ম ডেভলপার বানায় না। কে অ্যান্ড্রয়েড আর কে উইন্ডোজ ফোনে কাজ করে সেটা ব্যাপার না। নিজে যেটায় ভালো সেটা করেন। আগে ল্যাংগুয়েজ, এলগরিদমে জোর দেন। এপিআই শিখতে লাগে দুই দিন। ডিজাইন প্যাটার্ন কুয়েটে শেখানো হয়না। এটা সিলেবাসে থাকা উচিত। নিজে শিখে নেন। লাগবে।

সম্মান করতে শিখুন। কে কোথায় কিসে কাজ করে ব্যাপার না। যে যেখানেই ভালো তাকে সম্মান দিন। অন্য কেউ আপনার কাজকে হেয় করলে হাসিমুখে তার উত্তর দিন। জ্ঞানের তিনটি স্তর, প্রথমটায় মানুষ উদ্ধত হয়, দ্বিতীয়টায় মানুষ শান্ত হয়, তৃতীয়টায় হীনমন্যতায় ভোগে কারণ সে উপলব্ধি করে সে কতো কম জানে। নিজের কাজকে যতটুকু সম্মান দেবেন, মানুষের টাকেও ততটুকু। কাউকে হেয় করবেন না সে আপনাকে করুক আর নাই করুক। সম্মান ব্যর্থ হয়না। আমি উইন্ডোজ ফোন , সি শার্প এ কাজ করি। অনেক হাস্যরসের সামনে পড়েছি জীবনে এই প্ল্যাটফর্মে থেকে। কিন্তু আমি আজ দাঁড়িয়ে আছি এই  প্ল্যাটফর্ম দিয়েই। কারো কটুক্তি কানে তুলবেন না। আপনার স্বপ্ন সত্যি করার ক্ষমতা আপনার আছে। নিজেকে বিশ্বাস করুন। অন্যের উপর নির্ভরশীলতা ছাড়ুন। নাহলে পিছিয়েই থাকবেন। Take Everything With a Smile.

Sacrifice করতে প্রস্তুত থাকুন। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে কিছু আপনাতে ছাড়তেই হবে। আমি হারিয়েছি অনেক। তাই বলে এই না সবাইকেই করতে হবে। শুধু প্রস্তুত থাকুন যদি কোথাও সুযোগ পান নিজের একটু আনন্দ ছাড় দেয়াও লাগে, পিছপা হবেন না। সবাইকে আপনি খুশি করতে পারবেন না। যারা আপনাকে ভুল বুঝবে তাদের কষ্ট লাঘব করতে যা করা লাগে করবেন। কিন্তু নিজে জ্বলতে শিখুন।

স্বপ্ন দেখতে শিখুন। স্বপ্ন ই প্রেরণা দেয় বাঁচার। স্বপ্ন ছাড়া কিছু সম্ভব নয়। কুয়েটে স্বপ্ন হয়তো মারা যায়। কিন্তু তার মানে এই না আপনি পারবেন না।

প্রাইভেট ভার্সিটি শুনে নাক সিঁটকাবেন না। সম্মান দিতে শিখুন। বাংলাদেশের অনেক প্রান্তে অনেক ছাত্র আছে যারা সুযোগ কতটুকু পেয়েছে বিচার না করে যুদ্ধ করতে থাকে। ভালো কাজের প্রশংসা করেন। সেটা যেখান থেকেই আসুক। আপনি চিন্তা করতে পারবেন না কত ভালো ভালো জায়গায় এরা নিজেদের স্বাক্ষর রেখেছে। Microsoft কিংবা Google এ বাদ যায়নি।

নিজের পরিচয় তৈরী করুন। আপনি যত বড় কারো সাথেই থাকুন না কেন দিনশেষে আপনি কে সেটা বড় বিষয়, কার সাথে আপনি চলেন তা নয়। যারা আপনাকে দেখে হাসছে, একদিন আপনার কষ্ট তাদের সব কটুক্তি কে ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বাস করুন, কষ্ট বৃথা যায়না।

মানুষকে উৎসাহিত করুন। কেউ কোথাও ভালো কাজ করলে তাকে উৎসাহ দিন। নিরুৎসাহিত করবেন না। তাতে আপনার গৌরব প্রকাশ পায়না। আপনার সংকীর্ণতা প্রকাশ পায়।

কম্পিউটার সায়েন্সে পড়তে এসছেন। বিনোদন আপনার জন্য, সত্য। কিন্তু সেটাকেই সব বানিয়ে ফেলবেন না। শেখার চেষ্টা চালান। পারুন আর নাই পারুন। কে কি বললো বিষয় না। কম্পিউটার থেকে দূরে থাকবেন না। চিনতে শিখুন, ব্যবহার করতে শিখুন। যে ঠিকমতো মাউস নাড়াতে পারছেন না তার জন্য আগে কম্পিউটার চেনা জরূরী। পরে প্রোগ্রামিং। প্রথম বর্ষে যারা কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন নি আগে, হতাশ না হয়ে শুরু করে দিন। দিনশেষে আপনাকে একটু বেশি হাটতে হবে মানে এই না আপনি হাটতে পারবেন না।

আমরা শুরু করেছি। আমার সকল বন্ধু করছে । আবিদ, আশেক, অতনু, রানা, আশিক, গানিম, প্রীতম, ফাহিম, অরিন, রাকিব, আদনান সবাই চেষ্টা করছে। একদিন পরিস্থিতি বদলাবে। 2k5, 2k6, 2k7 চেষ্টা করছে। কুয়েট জ্বলবে। দেশ বা দেশের বাইরে, ইন্ডাস্ট্রি বা রিসার্চ সব জায়গাতেই কুয়েট দাঁড়াবে। আপনি শামিল হোন। আমরা অজুহাত চাইনা। সংগ্রাম চাই। কথা না বাড়িয়ে আমরা কাজটুকু করি। হয়ে যাবে।

প্রোগ্রামিং ব্যতীত টিকতে পারবেন না। লিখে রাখুন কথাটা। আপনি ঠিক করুন কিসে আপনি খুশি। Sky is the limit.

Run after skills. People will criticize you, taunt you. Learn from those.  In the last day, if you keep fighting, you will win. Winning doesn’t mean getting a good job or earn a lot. It means to live up to that name that you dreamed of. Its a journey. Its not a destination.

Advertisements