সাধারন একটি গল্প

আমি অনেকদিন লিখিনা, কিছুই লিখিনা, শক্ত কোডিং এর বিশ্রী লাইন আর মাউস নিয়ে গুতোগুতি ছাড়া কিসসু করিনা অনেকদিন, কেমন জানি মনে হয় ভেতরটা খালি হয়ে গেছে, কিছু পাওয়া যাচ্ছেনা।

আজকে যা লিখতে বসেছি তা শুরু করবার আগে ঢং করে বলে ফেলি –  “বেশি কথা বলবোনা” (আসলে ঘটনা উল্টো)।

যার কথা বলবো তার নিজেরও বলার মতো তেমন কেউ নাই, ছোটবেলা থেকেই একা, একটু বেশিই একা। একমাত্র সন্তান হিসেবে পাওনা ভালোবাসাটুকু যতটুকু চোখে লাগে তার পেছনের কষ্টটা কারো চোখে পড়েনা, তাই চোখে ধরিয়ে দেই আজ। চাকুরীজীবি বাবা মার ব্যস্ত জীবনের ফাঁক ফোঁকরে কখন তার শৈশবটা চলে গেছে সে নিজেও জানেনা। জানলেই বা কি? সময় তো আর বসে থাকেনা। মানুষ বাঁচে স্বপ্নে, একটা শিশু বাঁচে রঙে। অদ্ভুত শুনতে লাগতে পারে, সাইকোলজির থান ইট টাইপ বই হয়তো ভুল বলে বসতে পারে। কিন্তু আমার দেখা সেই ছেলেটির জীবনে রঙটাই ছিলো সব, বড্ড বেমানান একটা সাদা কালো জীবনের বাসিন্দা সে ছেলেটি তাই রঙের স্বপ্ন দেখতো। নিজের রঙে দুনিয়াটা আঁকতে গিয়ে অনেক সময় পার হয়ে যায়। নিজেকে স্বান্তনা দেবার মতো কিছু থাকেনা, বারবার একই কথা বলে নিজেকে আর কতো মানানো যায় বলো?

শৈশব না হয় থাক, ঘরে ফেরা মা-বাবার অপেক্ষায় আর একটু সময়ের দাবিতে সেটা তার অনেক আগেই ম্রিয়মান, কিছুটা এগিয়ে যাই বরং। সেটাই ভালো। জীবন চিনতোনা সেই ছেলেটি-হয়তো চিনতে চাইতোনা কোনো কারণে। ভুলটা তাই করা জরুরী ছিলো তার জীবনে। করে বসলো ও তাই। ভালোবেসে বসলো এমন কাউকে যাকে ভালোবাসা যায়না। একা জীবনের কোথাও একটু সুখ বোধহয় কোনভাবে চালিয়ে নিচ্ছিলো সে। কিন্তু ভুলটা ভাঙলো কিছু পরেই। ভাঙা ভুলটুকু তাই শুধরানোর চেষ্টা চললো আবার। সময় বয়ে গেছে অনেকটা, শৈশব আর কৈশোর তখন শেষ প্রান্তে। মাথায় চাপলো গানের ভুত। আনাড়ি হাতের গিটার তখন সঙ্গী তার। অদ্ভুত এক মেকী ভাবের রাজ্যের অধিপতি সেই ছেলে। স্কুলের কয়েক বন্ধুও জুটে গেলো তার সাথে একই পাগলামিতে। শান্তি গিয়ে লুকোলো আনাড়ি হাতের বাজনায়। চললো কয়েকদিন।

ততদিনে নামের পেছনে Awkward বিশেষনটা অনেক আগেই সেঁটে গেছে তার। বাঁধভাঙা Ego আর হাজারো মেকী অহংকারের মুখোশটাই হয়তো বাঁচিয়ে নিয়ে চলছিলো কোনমতে। হঠাৎ জীবনটা বদলে গেলো তার। অসুস্থ বাবা আর ভাঙাচোরা পরিবারের উত্তাপে কোথায় যে একা একটু শান্তি খোজা দরকার ছিলো তার। সেটা বোধহয় আর মিললোনা। মার একা সংগ্রামের পরিবারে কোথায় জানি নিজের রংটুকু হারিয়ে ফেললো সে।

ভালোবাসা তাই বলে হার মানেনি। কোথা থেকে চলে এলো তার জীবনে সে নিজেও জানেনা। তাই শান্তির লোভটা চেপে বসলো আবার। আবার ভালোবেসে বসলো কাউকে। চলছিলো বেশ। হঠাৎ আবিস্কার করলো ছেলেটি এ পৃথিবীতে ভালোবাসতে গেলে শুধু ভালোবাসলেই হয়না। আরো অনেক চাই, ভালো দেখতে  হওয়া চাই, সম্মান থাকা চাই, পারিবারিক মর্যাদা থাকা চাই। ক্লান্ত সে ছেলেটি অনায়াসে বুঝতে পারলো এই চাওয়ার শেষ হয়তো তার দেখা হবেনা।

ছেলেটির মার চাকরী শেষ হয়ে এলো। ছেলেটি নিজের বাকি সময়টুকু ঢেলে দিলো নিজের স্বপ্নের বাস্তবায়নে। দিন রাত পরিশ্রম, কাছের লোকগুলো বড় দূরের মনে হতে লাগলো। অনিশ্চয়তার এই জীবনের ফাঁকে আজো সে স্বপ্ন দেখে। আজো বিশ্বাস করে বসে আছে সেই মিথ্যেগুলো, কিই বা করার আছে বলো? ভেতরের কোথাও সে জানে এই যুদ্ধ শেষ হবার নয়। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে হয়তো আবার সবাই ছুঁড়ে ফেলে এগিয়ে যাবে তাদের জীবনে। পড়ে থাকবে এই বোকা মানুষটা।

আমি একজন বোকা, অনেক বড়ো বোকা। আমার কথা শোনবার নয়, বলবার ও নয়। আমি নতুন দুনিয়ার নতুন নিয়মে চলতে পাড়িনা। কিন্তু তাই বলে যুদ্ধ করতে জানিনা, তা নয়। হয়তো তোমাদের জীবনে আমার ঠাঁই নাই। তোমাদের চোখে আমি প্রয়োজনহীন, যোগ্যতার অভাবের ভারে ভারাক্রান্ত। আসলে আমি সাধারণ, আমি একটু বেশিই সাধারন।

Advertisements

One thought on “সাধারন একটি গল্প

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s