দ্বার বদ্ধ করে ভ্রমটাকে রুখি: প্রসঙ্গ কুয়েট

যে কথাগুলো বলতে এই বকবকানি শুরু করা তা মোটেও কোনো সুখকর অনুভুতি থেকে নয় এইটুকু বলতে পারি। দুপুরের ঘুমটা যখন আজ তেমন একটা জমে উঠলোনা আমার অগাধ অর্থহীন সময়ের কিছুটা আজ CCC (Central Computer Centre) এ কাটাতে ইচ্ছে করলো। অনেকদিন যাওয়া হয়না। হাতে কতগুলো নেটবই (ebook) আসা দরকার তাই  তক্কে তক্কে পুরনো দিনের মতো পৌছে গেলাম CCC তে।এই সময়টায় এমনিতেই CCC ভরা থাকে। আজ হঠাৎ খালি দেখে মনে হলো যাক্ বাবা আজ কপালটা বোধহয় ভালো। কিন্তু কতটুকু ভুল ভেবেছিলাম সেটার প্রমাণ পেলাম ঠিক একটু পর।

CCC এর চেহারা আগের থেকে ভালো হয়েছে দেখে মনটা আরো ভালো হয়ে গেলো। সোজা বসে পড়লাম এক কোনায়। গত কয়েকদিন ধরেই বেশ কিছু টিউটোরিয়াল ঘাটাঘাটি করছিলাম । আজ সুযোগ পেযে ভাবলাম Autodesk Maya 2009 এর ভিডিও টিউটোরিয়াল গুলোর এক দুইটা অন্তত নামিয়েই ফেলি। কিন্তু বিধি বাম।hotfile, rapidhshare, megaupload কোনো লিংক এই আমাকে ” মি: এডমিনিস্ট্রেটর” প্রবেশের অনুমতি দিলেননা!

ঘটনাচক্রে এক বড় ভাই জানালেন বিচিত্র এক কাহিনী! এখানে এখন আর video files, .rar extensions এছাড়া আরো অনেক extension এর ফাইল ডাউনলোড করতে দেয়া হয়না! কারণটা আরো হাস্যকর! এগুলো চালু থাকলে নাকি ছেলেপেলে পড়ার জিনিস বাদ দিয়ে অন্য জিনিস বেশী ডাউনলোড করে! হঠাৎ করে বর্তমান “ডিজিটাল” সরকারের ফেসবুক বন্ধ করার কাহিনী মনে পড়ে গেলো। এ কি বিচিত্র মিল!   “Academic” জিনিষ কি উক্ত type এর ফাইলগুলোতে থাকতে পারেনা???

“যদি নাই থাকে দয়া করে এই মূর্খ মানবকে জানাবেন কি ঠিক কোন ধরনের ফাইলগুলোতে তা থাকে????”

গুটিকতক ছাত্রের অপব্যবহারের জন্য এসকল ফাইল এক্সটেনশন ডাউনলো্ড বন্ধ করে আমার মতো “অসহায়” ছাত্র আজ সামন্য কয়েকটা টিউটোরিয়াল ভিডিও সামাতে ব্যর্থ হলো। যে কাজ সামান্য একটু নজরদারিতেই সম্ভব তা না করে  এহেন “ডিজিটাল” সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাহবা না দিয়ে পারছিনা। এই না হলে “ডিজি-টাল” বাংলাদেশ?

আমরা সামনে এগিয়ে যাবার কথা বলি। গাল ফুলানো, মন ভোলানো একগাদা প্রতিশ্রুতি শুনি প্রতি বছর। প্রতিশ্রুতি ই রয়ে যায় এগুলো। মাঝে এহেন “প্রশংসনীয়” সিদ্ধান্তে বিষিয়ে ওঠে সাধারণ ছাত্রদের জীবন।

যাবার আগে শুধু একটা কথাই বলে যাবো…ছাত্রদের পিছিয়ে রাখা যায়না, যাবেনা! যারা রাখতে চায় তারাই পিছিয়ে থাকে, দরজা আটকে যারা ভুলগুলোকে রুখতে চায় তারা একই সাথে যা কিছু ভালো তাকেও আটকে দেয়। কুপমন্ডুক এ কর্তৃপক্ষকে “উপদেশ” দেয়ার “ধৃষ্টতা” দেখাবনা। যারা এই যুগেও এই ধরণের বিচিত্র কাজ করতে সমর্থ হন তাদের কর্ণকুহরে এই আর্তনাদ পৌছবেনা। পার্থক্য এইটুকুই হবে শ্রদ্ধার বদলে একরাশ হতাশা নিয়ে বের হয়ে যাবে আমার মতো অসহায় শিক্ষার্থীরা। আর পেছেনে পরে থাকবে কুপমন্ডুক এই কর্তৃপক্ষ।

আজ যখন শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সিদ্ধান্তসমূহের প্রশংসা করে এর শিক্ষার্থীরা, কি করবে কুয়েটের শিক্ষার্থীরা? প্রশংসার বদলে কি হতাশাই ঝরে পড়বেনা তাদের কণ্ঠে? পড়ুক!

“কারা পিছিয়ে যাবে? কর্তৃপক্ষ না ছাত্ররা?”

উত্তরের অপেক্ষায় রইলামনা। জানি, এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার “ধৃষ্টতা” তাদের নেই!

Advertisements

16 thoughts on “দ্বার বদ্ধ করে ভ্রমটাকে রুখি: প্রসঙ্গ কুয়েট

  1. জঘন্য আর অদ্ভূত …
    আমি ওই প্রতিষ্ঠানের উদ্ভট সিস্টেমগুলাকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ঘৃণা করি…
    আর এটাও জানি, কূপমন্ডুকদের কোনদিন বুঝাতে পারা যাবেনা যে দুনিয়া কই গেসে। গিলাতলা আর খানাবাড়ীর মানসিকতা ধারণকারীরা কোনদিন উপলব্ধি করতে পারবেনা এই ছেলেগুলা হয়ত NASA, MIT তে যাবার স্বপ্ন আর সম্ভাবনা রাখতো…
    বের হবার পর? অলমোস্ট ইম্পসিবল!

    তাই আমার ভাষা নাই। আর যেহেতু শ্রদ্ধা স্বতঃস্ফূর্ত জিনিস– আমি ইদানিং টের পাই, অল্প কয়েকজন ছাড়া আর কোন নামমাত্র শিক্ষকের জন্য আমার হৃদয়ে কোন জায়গা নাই… এইটা হয়ত আমার দুর্বলতা। কিন্তু তবুও এটাই বাস্তবতা…

    কোনদিন কোন ক্ষমতা পাইলে দেখায়া দিতাম!
    I still feel to change something bigger in there….

  2. Dear Siyam,

    The reality of these sort of problem is to understand. We have lost faith and trust in all sort of relationship. You might be noticed that son/daughter is telling lie to his/her parents to get extra pocket money or to stay a bit more in outside. Parents are telling lie for their loophole. It is applicable to everywhere in our social bonding which we are loosing day by day now.

    Let us discuss about university. Students will learn about the universe here. And obviously it is not the classroom education. In the classroom, it is possible to give the whole universe to the students. They are very similar to a talking bird. There is a set system and the teachers are doing like talking bird.

    Obviously the students will learn from the other sources, and internet is the ocean of information. Students should have its full utilization.

    Regarding the faith and trust between students and teachers of KUET. We are the both side loosing this important issue. How we can recover from it. The current student has a strong role on it. Those who are doing the wrong thing, if you can not pro totest it, at least keep away those groups and keep close bonding to the good guys, and 95% are good. If you can keep away these 5% away, then I think it is possible to regain the healthy environment.

    Best regards

    Hafiz

    • Sir,
      Thank you very much for your thoughtful comment. I appreciate your opinion very much. I will remember your advice. Hopefully prateek will like this too.
      Actually this blog is not mine. Author of this blog is Prateek (CSE 2k8).

  3. আমি একটা ছোট্ট গল্প বলি,
    এক লোক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে তার প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার প্রয়োজন পড়লো। আশেপাশে কোন জায়গা না দেখে সে রাস্তার পাশেই কাজ সেরে দিল। তো সেই সময় রাস্তা দিয়ে এক পুলিশকে আসতে দেখে ঐ ব্যক্তি দ্রুত তার মাথার টুপি দিয়ে সদ্য ত্যাগকৃত মলটা ঢেকে দিল। যখন পুলিশ তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, এখানে কি করছ? তখন ঐ লোক জবাব দিল, এই টুপির নিচে আমি একটা খুব বিরল পাখি ধরেছি, আপনি যদি একটু পাহারা দিতেন তাহলে আমি সেই ফাঁকে একটা খাঁচা নিয়ে আসতাম। পুলিশ সরল বিশ্বাসে দাঁড়িয়ে পড়লো। সারাদিন পার হয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেল, কিন্তু ঐ লোক আর ফিরে না। এদিকে পুলিশকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার পাশে মানুষের ভীড় হয়ে গেল। সবাইই আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, টুপির নিচে কি পাখি আছে তা দেখবে বলে। শেষ পর্যন্ত একজন বুদ্ধি দিল, আর অপেক্ষা করে কি হবে? তারচেয়ে আপনি টুপিটা সরান, আমরা সবাই মিলে থাবা দিয়ে পাখিটা ধরবো, পালাতে পারবে না। অতঃপর যেই কথা সেই কাজ, ফলাফলও হাতেনাতে!
    আমরাও সবাই কুয়েটে আসি টুপির নিচের ওই পাখির গল্প শুনে, আর টুপি সরিয়ে…
    😦

  4. আসলেই, কি দেখে ভর্তি হয়েছিলাম আর ভর্তি হয়ে কি দেখলাম! আগে ভাবতাম কুয়েটের অবস্থানটাই হয়তো এর পশ্চাদপদতার কারণ, এখন দেখছি আরও অনেক কারণ আছে।

    • ভাই! যারা পশ্চাৎপদ থাকতে চায়, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তারা তাদের “অবস্থান” বজায় রাখবেই!

  5. আমার এই লেখাটা পড়েছিলি? মুখে হয়ত কিছু বলসিলাম… কিন্তু আমার মনের কষ্টগুলো কেউ না জানুক, আমার ব্লগে লিখে বসেছিলাম… যেন আমি ভুলে গেলেও লেখা রয়ে যায়…

  6. আমাদের বাকস্বাধীনতা বলে যে স্বত্বাটা তা এই কুয়েটে এসে মুর্ছা গেছে । এই বিশাল উন্মুক্ত পৃথিবী থাকতে কেন যে এই পিঁপড়ার গর্তে এসে আশ্রুয় খুঁজে ফিরেছি , তার উত্তর নিজের কাছে নেই । শুধু হতাশা । যে ছেলেটা একসময় পৃথিবীতে দাপিয়ে বেরানোর স্বপ্ন দেখেছে , কুয়েটে আসার পর তা আর কখনো দৃষ্টিগোচরে আসবে না ।

  7. সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য হল অন্তরের দারিদ্র্য এবং আমার মনে হয় আমাদের শিক্ষকের এই জিনিসটাই সবচেয়ে বেশি, আজীবন ইন্টারনেটের স্বপ্ন দেখিয়ে যাচ্ছে, আমার তো ভাবতেই অবাক লাগে একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্ছিত, আর তারা না দেওয়ার পিছনে অদ্ভুত সব যুক্তি দেখায়, যা শুধু পাগলকেই বোঝানো সম্ভব ,thats why KUET ROCKS Always … will be Rocking always ..

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s