পাক্কা আড়াই মাসের খাটুনি এবং একটি হাজারো বাগ সহ ডিজিটাল লজিক সার্কিট সিমুলেটর!

উপরের শিরোনাম খুব সহজেই এটা ভাবাতে সমর্থ এ নির্ঘাত ঘরে বন্দী এক কুপমন্ডুকের  হঠাৎ “দুর্ঘটনাক্রমে” পেয়ে যাওয়া কোনো কিছুর বড়াই মাত্র। ঘটনা যে আসলেই তা না সেটা বলার “দুঃসাহস” আমি দেখাবনা। সত্যি কথা আসলে অনেকটা তাই। কিন্তু পুরোটাই যে তাই সেটা কিন্তু মানবোনা। 😉

পাক্কা আড়াই মাস রাতে গড়ে চার ঘন্টা করে ঘুমিয়ে  আর মানুষের সামনে সেইরকম “ভাব” নিয়ে যা আজ দাঁড়ালো তাতে বাগের সংখ্যা হিসাব করলে “ক্যালকুলেটর” লাগতে পারে। সামান্য এক ডিজিটাল লজিক সার্কিট সিমুলেটর যেটা কম্বিনেশনাল লজিক সার্কিট সিমুলেট একটু আধটু হলেও করতে পারে। ইনপুট মেথড আর সিমুলেশন টেকনিকের হাজারো ত্রুটি এখনো রয়ে গেছে আমার এই শত আরাধ্য প্রজেক্টে। নিজের প্রচেষ্টার কথা বলতে এই ব্লগ লেখা না। প্রসঙ্গ একটু ভিন্ন।

যখন প্রজেক্টটা শুরু করলাম, মোটামুটি সবার সহযোগিতা এবং পুর্ণ সাহায্যের আশ্বাস পেয়েই নেমেছিলাম। পুরো নেট ভাজাভাজা করে নামলে এনেছিলাম নিকোলাস গ্লাস নামক এক ব্যাক্তির ইয়র্কশায়ার ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক থাকাকালে থিসিস হিসেবে বানানো এক ডিজিটাল লজিক সার্কিট সিমুলেটর। লেগে গেলাম সাধনায়। কিন্তু পুনরায় বিধি বাম! যে কাজ আমি দু হাতে করবো বলে নিয়েছিলাম সেটা হয়ে গেলো আমার একার হাতের কাজ। যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলো, অজ্ঞাত কোনো কারণে হাত তারাই সরিয়ে নিলো। এ জিনিস প্রজেক্ট হিসেবে অনেক বড় হয়ে যায় এবং তা করা সমীচিন নয় এহেন বাক্যও শুনতে হয়েছিলো আমায়। বড় ভাইরা তবু দিয়েছিলো অসাধারণ সহযোগিতা।

নাফি সাধ ভাই, ইরতেজা ভাই, জুনায়েদ ভাই, শাওন ভাই,  মেসি ভাই , ইকবাল ভাই, (লম্বা) সিয়াম ভাই, সাকিব ভাই, রাজিব ভাই আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে এহেন সাপোর্ট দেবার জন্য!

এবং যার কথা না বললেই নয়, “তানবিন ইসলাম সিয়াম”- একগাদা ধন্যবাদ আপনাকে দেবো কিনা বুঝছিনা, বড় ভাই হয়েও যা করেছেন, তাতে আপনাকে আর কিছু বলার নেই। ধন্যবাদ দিলে দুরত্বটা বেড়ে যাবে। কমই থাক, কি বলেন? আপনার কাছে কাজ শিখে যাচ্ছি, যাবো!

অবাক হয়ে গেলাম সহপাঠী “প্রজেক্ট পার্টনারের” আচরণে। একটি লাইনের কোডও আমি বের করতে সমর্থ হইনি। বলতে পারেন আজ “আজান দিয়ে” এই কথা বলার মানে কি? হয়তো একটু আক্রমণাত্মকও হয়ে যাচ্ছে কথাগুলো। কিন্তু সত্যি এটাই অনেক অসুস্থতা আর নির্ঘুম রাত কাটিয়ে যতটুকু করেছি সেটা বলার মতো কিছু না হলেও আমি চেষ্টা করেছি। আজও প্রতি রাতে চার ঘন্টা ঘুমিয়ে একটু একটু করে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সাহায্য এখন অবশ্য পাচ্ছি। তবে সেটা কেবলই এই প্রায় ১৫০০ লাইনের কোড গোড়া থেকে কাউকে বুঝিয়ে দেয়ার খাতিরে।

আমার কষ্টের মূল্য চাইনা। যেটা চাই সেটা হলো সি.এস.ই. এর শিক্ষার্থীদের সাহস। নিজের জ্ঞান ব্যবহারের সাহস, অন্যথা পিছনে আমরাই পরে থাকবো। প্রজেক্টের আকার নয়, পরীক্ষার নাম্বার নয়, কাজ করার দক্ষতা এবং সাহস ই হওয়া উচিত সি.এস.ই. এর ছেলেদের মূল লক্ষ্য। বলছিনা, ওগুলোর মূল্য নেই। অবশ্যই তা দরকার। কিন্তু পরীক্ষার নাম্বার পাবার আশাটা যেন নিজের দক্ষতা অর্জনের এ যুদ্ধ হতে বেশী দামী না হয়ে যায়! যে দক্ষতার পেছনে ছোটে, সাফল্য অবশ্যই তার পেছনে ছোটে। জানি, কুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতি সে কথা বলেনা। কিন্তু একটু খুজেঁ দেখুন সে সকল ব্যাক্তিদের যারা কুয়েট সি.এস.ই. কে আজ এই উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আশা করি কাউকেই খারাপ অবস্থায় দেখবেননা।

সবশেষে যে সকল সহপাঠী আমার অতিরিক্ত ভাব সহ্য করেও আমাকে উৎসাহ দিয়ে গেছে, তাদের প্রতি- অসংখ্য ধন্যবাদ!

দ্বার বদ্ধ করে ভ্রমটাকে রুখি: প্রসঙ্গ কুয়েট

যে কথাগুলো বলতে এই বকবকানি শুরু করা তা মোটেও কোনো সুখকর অনুভুতি থেকে নয় এইটুকু বলতে পারি। দুপুরের ঘুমটা যখন আজ তেমন একটা জমে উঠলোনা আমার অগাধ অর্থহীন সময়ের কিছুটা আজ CCC (Central Computer Centre) এ কাটাতে ইচ্ছে করলো। অনেকদিন যাওয়া হয়না। হাতে কতগুলো নেটবই (ebook) আসা দরকার তাই  তক্কে তক্কে পুরনো দিনের মতো পৌছে গেলাম CCC তে।এই সময়টায় এমনিতেই CCC ভরা থাকে। আজ হঠাৎ খালি দেখে মনে হলো যাক্ বাবা আজ কপালটা বোধহয় ভালো। কিন্তু কতটুকু ভুল ভেবেছিলাম সেটার প্রমাণ পেলাম ঠিক একটু পর।

CCC এর চেহারা আগের থেকে ভালো হয়েছে দেখে মনটা আরো ভালো হয়ে গেলো। সোজা বসে পড়লাম এক কোনায়। গত কয়েকদিন ধরেই বেশ কিছু টিউটোরিয়াল ঘাটাঘাটি করছিলাম । আজ সুযোগ পেযে ভাবলাম Autodesk Maya 2009 এর ভিডিও টিউটোরিয়াল গুলোর এক দুইটা অন্তত নামিয়েই ফেলি। কিন্তু বিধি বাম।hotfile, rapidhshare, megaupload কোনো লিংক এই আমাকে ” মি: এডমিনিস্ট্রেটর” প্রবেশের অনুমতি দিলেননা!

ঘটনাচক্রে এক বড় ভাই জানালেন বিচিত্র এক কাহিনী! এখানে এখন আর video files, .rar extensions এছাড়া আরো অনেক extension এর ফাইল ডাউনলোড করতে দেয়া হয়না! কারণটা আরো হাস্যকর! এগুলো চালু থাকলে নাকি ছেলেপেলে পড়ার জিনিস বাদ দিয়ে অন্য জিনিস বেশী ডাউনলোড করে! হঠাৎ করে বর্তমান “ডিজিটাল” সরকারের ফেসবুক বন্ধ করার কাহিনী মনে পড়ে গেলো। এ কি বিচিত্র মিল!   “Academic” জিনিষ কি উক্ত type এর ফাইলগুলোতে থাকতে পারেনা???

“যদি নাই থাকে দয়া করে এই মূর্খ মানবকে জানাবেন কি ঠিক কোন ধরনের ফাইলগুলোতে তা থাকে????”

গুটিকতক ছাত্রের অপব্যবহারের জন্য এসকল ফাইল এক্সটেনশন ডাউনলো্ড বন্ধ করে আমার মতো “অসহায়” ছাত্র আজ সামন্য কয়েকটা টিউটোরিয়াল ভিডিও সামাতে ব্যর্থ হলো। যে কাজ সামান্য একটু নজরদারিতেই সম্ভব তা না করে  এহেন “ডিজিটাল” সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাহবা না দিয়ে পারছিনা। এই না হলে “ডিজি-টাল” বাংলাদেশ?

আমরা সামনে এগিয়ে যাবার কথা বলি। গাল ফুলানো, মন ভোলানো একগাদা প্রতিশ্রুতি শুনি প্রতি বছর। প্রতিশ্রুতি ই রয়ে যায় এগুলো। মাঝে এহেন “প্রশংসনীয়” সিদ্ধান্তে বিষিয়ে ওঠে সাধারণ ছাত্রদের জীবন।

যাবার আগে শুধু একটা কথাই বলে যাবো…ছাত্রদের পিছিয়ে রাখা যায়না, যাবেনা! যারা রাখতে চায় তারাই পিছিয়ে থাকে, দরজা আটকে যারা ভুলগুলোকে রুখতে চায় তারা একই সাথে যা কিছু ভালো তাকেও আটকে দেয়। কুপমন্ডুক এ কর্তৃপক্ষকে “উপদেশ” দেয়ার “ধৃষ্টতা” দেখাবনা। যারা এই যুগেও এই ধরণের বিচিত্র কাজ করতে সমর্থ হন তাদের কর্ণকুহরে এই আর্তনাদ পৌছবেনা। পার্থক্য এইটুকুই হবে শ্রদ্ধার বদলে একরাশ হতাশা নিয়ে বের হয়ে যাবে আমার মতো অসহায় শিক্ষার্থীরা। আর পেছেনে পরে থাকবে কুপমন্ডুক এই কর্তৃপক্ষ।

আজ যখন শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সিদ্ধান্তসমূহের প্রশংসা করে এর শিক্ষার্থীরা, কি করবে কুয়েটের শিক্ষার্থীরা? প্রশংসার বদলে কি হতাশাই ঝরে পড়বেনা তাদের কণ্ঠে? পড়ুক!

“কারা পিছিয়ে যাবে? কর্তৃপক্ষ না ছাত্ররা?”

উত্তরের অপেক্ষায় রইলামনা। জানি, এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার “ধৃষ্টতা” তাদের নেই!